ফেসবুকে যে কাজগুলো কখনোই করা উচিত নয়। - HintsInfo.Com
Breaking News
Home / Facebook Tips / ফেসবুকে যে কাজগুলো কখনোই করা উচিত নয়।

ফেসবুকে যে কাজগুলো কখনোই করা উচিত নয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ফেসবুক। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, বিভিন্ন আইডিয়া এবং তথ্য শেয়ার করা, এমন কি সাম্প্রতিকতম সংবাদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে ফেসবুকের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু গুজব ছড়ানো, অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা তৈরিতেও দুষ্ট মন-মানসিকতার দুবৃর্ত্তের ও অভাব নেই। আসুন জেনে নেই এমন কিছু তথ্য যা কখনই ফেইসবুকের স্টেটাসে শেয়ার করা উচিত নয়।

ফেসবুকে যে কাজগুলো কখনোই করা উচিত নয়ঃ

অপরিচিত বন্ধুদের এড করা: এতে করে আপনার একাউন্ট হ্যাক হতে পারে। আপনি যাকে চিনেন না তাকে এড করার জন্য আপনি বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন। ধরুন আপনার অপরিচিত বন্ধ কোন বাজে ছবি এড করলে আপনার ওয়ালে দেখা যাবে এটা আপনার জন্য খুবই খারাপ একটা বিষয়। তাই অপরিচিত বন্ধু এড করা থেকে বিরত থাকুন।

অযাচিত ট্যাগ করার অভ্যাসঃ অনেকেই আছেন একটা স্ট্যাটাস/নোট বা ছবি আপলোড করার পর তাতে পাইকারি হারে সবাইকে ট্যাগ করে দেন। এই কাজটি কখনোই করবেন না। যে স্ট্যাটাস/নোট বা ছবির সাথে যার সম্পর্ক নেই, তাঁকে ট্যাগ করা রীতিমতন হাস্যকর একটা ব্যাপার। ব্যাপারটা ঘাড়ে ধরে কিছু পড়তে বাধ্য করা কিংবা দেখানোর মতন। লাইক/ কমেন্টের প্রত্যাশায় অযথা ট্যাগ করে অন্যের বিরক্তির কারণ হবে না।

সম্পর্কের মনোমালিন্য: সম্পর্কের মধ্যে মন কষাকষি, ঝগড়া বিবাদ হবেই। আবার সেটা মিটেও যাবে। কিন্তু সেই তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করাটা অনেক সময় সম্পর্কের ভাঙ্গন ধরাতে পারে। এসব তথ্য শেয়ার করার মাধ্যমে আপনি নিজেও যেমন ছোট হবেন তেমনি নিজের প্রিয় মানুষটির কাছেও আরও ছোট হয়ে যাবেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে নিজের মধ্যেই আগলে রাখুন। আমাদের সবারই ভুল-ত্রুটি রয়েছে, সবাই ভুল করি কিন্তু তাই বলে ফেসবুকের মাধ্যমে গোটা দুনিয়াকে আমাদের সেই ভুলগুলোকে জানাতে হবে? মনে রাখবেন একবার সেখানে এসব তথ্য প্রকাশ করলে আপনি আর তা ফেরত নিতে পারবেন না।

বাচ্চাদের পোশাকবিহীন ছবি: অনেক সময় পোশাকবিহীন ছোট্ট বাবুদের ছবি অনেক নিষ্পাপ এবং আদুরে লাগলেও তা ফেসবুকে শেয়ার করা উচিত নয়। খারাপ মনমানসিকতার মানুষ এই ছবিগুলো অনৈতিক কাজেও ব্যবহার করতে পারে। গোসলরত অবস্থায় বা অন্য কোন সময় নগ্ন বাচ্চাদের ছবি শেয়ার করলে দুষ্ট লোকেরা তা বিভিন্ন ট্রল পিকচার বা স্টিকার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

কারও সম্পর্কে বিব্রতকর গল্প বলা: নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিব্রতকর ঘটনা যদি ফেসবুকে শেয়ার করেন কোন সমস্যা নাই। রঙ্গরস করে নিজের অসহায়ত্ব বোঝাতে পারলে তো আরও ভালো। কিন্তু অনুমতি ছাড়া আপনার স্বামী বা স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব বা নিকটজনের বিব্রতকর গল্প শেয়ার করা একদমই অনুচিত। গল্পটি অনেক মজার হলেও হয়তো আপনার প্রিয়জনের কাছে সেটি বিব্রতকর হতে পারে। এ ছাড়াও ছোট বাচ্চাদের লজ্জাস্কর পরিস্থিতির গল্প ফেসবুকে শেয়ার করার সময় খেয়াল রাখবেন আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টি অনেক মজার হলেও অদূর ভবিষ্যতে বাচ্চাটি বড় হওয়ার পড়ে কেউ যেন গল্পটি বলে কিশোর বয়সে তাকে বিব্রত করতে না পারে।

ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা: নিজের ব্যক্তিগত জীবনের স্পর্শকাতর ব্যাপারগুলো ফেসবুকে পোস্ট না করাই ভালো। অনেকেই ফেসবুকে বাড়ির ঠিকানা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি, মোবাইল নং দিয়ে রাখেন। যে কেউ এই তথ্যগুলো দিয়ে নানাভাবে আপনার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কখনও ফেসবুক সূত্রে শেয়ার করবেন না।

অরুচিকর ছবি প্রকাশ করা: অনেকেই দুর্ঘটনায় আক্রান্ত জখমের ছবি ইত্যাদি দেওয়াটাকে দারুণ ব্যাপার মনে করেন। কিন্তু এসব ছবি অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এটা অনেকেই ভেবে দেখে না। অবশ্যই এটি আপনার ছবি, ফেসবুক একাউন্টের মালিকও আপনি কিন্তু, আপনার দেওয়া ছবিগুলো অন্য কারও ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে আসবে এবং তারা ছবিটা না দেখে নিচে স্ক্রল করে নামতে পারবে না।

নেতিবাচক মন্তব্য করা: যে কোনো ব্যাপারে আপনার নেতিবাচক ধারনা এবং মতামত থাকতেই পারে। তাই বলে ফেসবুকে তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করাটা মোটেই ভালো নয়। বরং তাতে আপনার অপ্রাপ্তবয়স্ক মানসিকতার প্রকাশ পায়। আর এর ফলে একে একে আপনার বন্ধুরাও আপনার পোস্টের প্রতি মনোযোগ দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন।

অন্যের খবর প্রকাশ করা: অনেকেই তাদের গর্ভবতী হওয়া, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, বিয়ে করা বা নতুন চাকরি পাওয়ার মতো অনেক ঘটনা ফেসবুক থেকে দূরে রাখতে চান। আপনি যদি ঘটনাটি জেনে তাদের অভিনন্দন জানাতে চান তবে তাদেরকে ইনবক্সে মেসেজ পাঠান। আপনি তখনই শুধুমাত্র ফেসবুকে তাদের খবর শেয়ার করতে পারবেন যখন, তারা সুখবরের সুস্পষ্ট ঘোষণা, খবরটি সম্পর্কিত প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন অথবা পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দেয় এমন কোন খবর যেটা দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা করতে আগ্রহী। মনে রাখবেন এটা তাদের নিজেদের শেয়ার উপযোগী খবর, আপনার নয়। কে জানে, হয়তো কোন জরুরি কারণে তারা এটি ফেসবুকে প্রকাশ করতে চায় না। তাদের এই কারণটিকে সম্মান করতে শিখুন।

গোপনীয়তা: আপনি এমন কিছু করছেন বা ভাবছেন যা অন্য কেউ দেখুক এটা আপনি চান না এমন কিছু ফেসবুকে শেয়ার করবেন না। যেমন, আপনি আপনির চাকরিকে ঘৃণা করেন, বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আপনি কনসার্ট দেখতে গেছেন এমন কিছু। এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে মানুষেরা তাদের বসের প্রতি ঘৃণা বা কাজের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তাদের চাকরি হারিয়েছেন।

অনলাইনে পোস্ট করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন, কোন কিছু শেয়ার করার আগে একবার চিন্তা করুন।

About NuRe ALam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *